করোনাকালে শিশুশ্রম রুখতে রাজ্যের শিশু শ্রম প্রকল্পের স্কুলগুলিতে ড্রপআউট পড়ুয়াদের নিয়ে বিশেষ ক্লাস
দি নিউজ লায়নঃ করোনাকালে শিশুশ্রম রুখতে রাজ্যের শিশু শ্রম প্রকল্পের স্কুলগুলিতে ড্রপআউট পড়ুয়াদের নিয়ে বিশেষ ক্লাস। দার্জিলিং জেলায় মোট এগারোটি এসটিসিগুলিতে নিয়মিত হাজিরা নিচ্ছেন প্রশিক্ষকেরা। দার্জিলিং জেলার পাহাড়ে ২টি ও শিলিগুড়ি শহরে রয়েছে ৯টি এসটিসি। মোট শিশুর সংখ্যা প্রায় ২৭০জন।এরমধ্যে শিলিগুড়ি মহকুমার চার ব্লক সহ শহরের সামাজিক পরিকাঠামোগত ভাবে দুর্বল এলাকাগুলিতে নয়টি এসটিসি সেন্টার চালু রয়েছে।
প্রতি এসটিসিতে রয়েছে নূন্যতম ৩০-৩৫জন স্কুলছুট শিশুরা।যারা কেউ শিশু শ্রম থেকে ফিরে এসেছে কারো আবার বিবাহ রুখে দিয়ে মূলস্রোতে ফিরিয়ে এনেছেন ব্লক প্রশাসনিক আধিকারীকদের নেতৃত্বে এসটিসি প্রশিক্ষকেরা। তবে করোনাকালে সমস্ত স্কুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ফের স্কুলছুটের আশঙ্কা মাথায় আসতেই ব্লকে ব্লকে নেমে পড়ে এসটিসিগুলি। প্রতি এসটিসিতে রয়েছে দুজন এডুকেশনাল ট্রেইনার, একজন একাউন্টেন্ট ও একজন ভোকেশনাল প্রশিক্ষনদাতা রয়েছেন।তারাই এক একজন এক- এক জায়গা বেছে নিয়ে নেমে পড়েন শিশুদের বাড়ি বাড়ি হাজিরার খাতা নিয়ে। তারা বলেন করোনা কিছুটা বেগ কমতেই শিশুদের বাড়ি বাড়ি পৌছে যান তারা।
খোঁজ নেন শরীর স্বাস্থ্য সম্পর্কে।পরিবারগুলিকে শিশুশ্রমের ক্ষতিকর বিষয় নিয়ে বোঝান।খড়িবাড়ীর এসটিসির ভোকেশনাল প্রশিক্ষক পুস্পা ওড়াও বলেন আমদের ব্লকে লকডাউনে একটি নাবালিকা (১৬) মেয়ের বিয়ে ঠিক করে ফেলে পরিবার। পাত্রের বয়সও ১৮ বছর। আমরা ছেলেটি ও মেয়েটিকে বোঝাই ও পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে সেই বিয়ে রুখি। এরপরই যাতে পুনরায় এই স্কুলছুট শিশু কিশোরদের এসটেসির পঠনপাঠন না ছুটে যায় সেদিকটি নজরে রেখে ব্লক বিডিও জানান বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিতে হবে। এসটিসি প্রশিক্ষক মমতা রোকা জানান পাশাপাশি পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় মাসে দুদিন সমস্ত ছেলেমেয়েদের সেন্টারে খেলাধুলোর জন্য আসতে বলা হচ্ছে।
তাতে আমরা তাদের উপস্থিতি মিলিয়ে নিতে পারছি। কেউ অনুপস্থিত হলে দ্রুত তার বাড়ি গিয়ে তার খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। দার্জিলিং জেলার শ্রম দপ্তরের আধিকারিক জানান দেশের বহু জায়গায় এই ধরনের স্কুল ছুট শিশুদের পড়াশোনার সেন্টারগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে আমাদের জেলায় পাহাড়ে দুটি সেন্টার, শিলিগুড়ি পুরনিগমের আওতায় ২,৪,২৮,৭,২০নাম্বার ওয়ার্ড সহ খড়িবাড়ী, ফাঁসীদেওয়া,নকশালবাড়ি এলাকায় সেন্টারগুলি চলছে। করোনা ও লকডাউনের আমরা সমস্ত সেন্টারে কতজন শিশু রয়েছে, কেউ পুনরায় স্কুলছুট হয়েছে কিনা তার রিপোর্ট তৈরি করেছি। তাতে স্বস্তির বিষয় নতুন করে স্কুলছুটের খবর নেই।

Post a Comment